Mooladhara Chakra

মূলাধার চক্র

অবোধিতা এবং প্রজ্ঞা

মূলাধার শব্দটি দুটি সংস্কৃত শব্দ থেকে এসেছে। “মূল” মানে প্রধান বা শিকড় এবং “আধার” অর্থাৎ ধারক বা আশ্রয়; তাই “মূলাধার” শব্দের অর্থ হল সৃষ্টির প্রধান আশ্রয়।

শিশুসুলভ গুণাবলী আমাদের প্রত্যেকের মাঝে একটি সহজাত ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য । সরলতা, অবোধিতা, পবিত্রতা এবং প্রজ্ঞা এই চক্রের মূল গুণাবলী । যখন কোন সাধক নিয়মিত ধ্যানের মাধ্যমে এই চক্রের পরিশুদ্ধি ঘটায় তখন তার মধ্যে এই সকল গুণাবলী পূর্ণ মাত্রায় প্রকাশ পায়। শারীরিক স্তরে এই চক্রটি রেচনতন্ত্র এবং প্রজননতন্ত্রকে পরিচালনা করে। আধ্যাত্মিক স্তরে আমাদের মূলাধার চক্র সমগ্র সূক্ষ্ম দেহযন্ত্রের আধার হিসাবে ক্রিয়া করে এবং কুণ্ডলিনী শক্তিকে ধারন করে।

ধ্যানের মাধ্যমে আমরা যখন আমাদের বিকাশ ঘটে, তখন আমরা নিজেদের ভিতর সরলতা এবং অন্যদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসার গভীর অনুভূতি অনুভব করতে লাভ করতে শুরু করি । আমাদের স্মৃতিশক্তি ব্যাপক উন্নত হয় কারণ আমাদের মনের অপ্রাসঙ্গিক বিভ্রান্তিগুলো দূর হয়ে যায় । এই কেন্দ্রটি আমাদের মধ্যে বিকশিত হওয়ার সাথে সাথে আমাদের মধ্যে একটি আকর্ষক ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটে।

অবস্থান:
মূলাধার চক্র আমাদের মেরুদণ্ডের গোড়ায় পেলভিক প্লেক্সাসে অবস্থিত। এই মূলাধার চক্রের চৈতন্যের অনুভূতি আমাদের হাতের তালুর গোড়ার অংশে অনুভব করা যায়।

রঙ:
এই চক্রের বর্ণ লাল প্রবালের ন্যায়। এই চক্র আমাদের মধ্যে পৃথ্বীতত্ত্বকে প্রকাশিত করে।

মূলাধার চক্রের সূক্ষ গুণাবলীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে :

• অবোধিতা
• পবিত্রতা
• সরলতা
• শিশুসুলভ আনন্দ
• অভ্যন্তরীণ প্রজ্ঞা
• মর্যাদা
• ভারসাম্য
• দিশানির্ণায়ক বোধ
• প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য

সব থেকে নিচের চক্রটি হল আমাদের অবোধিতার জন্য। আমাদের অবোধিতা কখনই ধ্বংস হতে পারে না কারণ এটি চিরন্তন। শুধুমাত্র কিছু মেঘ দ্বারা এটিকে আবৃত করা যেতে পারে। কিন্তু কুণ্ডলিনীর জাগরণের সাথে সাথে আমাদের মধ্যে অবোধিতা ফিরে আসে। আমাদের চিত্ত একেবারে অবোধ হয়ে ওঠে এবং সেখানে কোন লালসা ও লোভ থাকে না।.

অনুভব এবং উপকারিতা:
মূলাধার চক্র সুস্থ এবং ভারসাম্যপূর্ণ থাকলে কোনও ব্যক্তি প্রজ্ঞাবান ও সুবুদ্ধিসম্পন্ন হয়ে ওঠেন। তিনি ঠিক এবং ভুলের মধ্যে পার্থক্য করার সহজাত ক্ষমতা লাভ করেন। যখন কোনও ব্যক্তি প্রকৃতই প্রজ্ঞাবান হয়ে ওঠেন, তখন তিনি সেই সমস্ত কাজ এড়িয়ে চলেন যা তার নিজের বা অন্যদের ক্ষতি করে।

আমাদের মূলাধার চক্র ভারসাম্যপূর্ণ থাকলে তা স্মৃতিশক্তি এবং মনোসংযোগ বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। মানসিক ভারসাম্য এবং স্থিতিশীলতা বজায় রেখে একজন ব্যক্তি কোন সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হন। যেহেতু মূলধার চক্রটি পৃথ্বিতত্ত্ব দ্বারা গঠিত, তাই এটি প্রকৃতির সাথে আমাদের চেতনতাকে যুক্ত করে এবং এক সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবন উপভোগ করতে সাহায্য করে। এটি আমাদেরকে অস্বাভাবিক, প্রকৃতির বিরুদ্ধ বা বিকৃত জীবনধারা এড়াতেও সাহায্য করে । একটি শক্তিশালী মূলাধার চক্র আমাদেরকে আমাদের নিজেদের এবং সেইসাথে অন্যদের অবোধিতা ও পবিত্রতার অনুভূতি দেয়। আমাদের মূলাধার চক্র বাধাগ্রস্ত হলে, তখন অনেক ধরণের অসুস্থতা তৈরি হতে পারে।

মূলাধার চক্র ভারসাম্যপূর্ণ থাকলে এটি আমাদের নানারকম বামপার্শ্বিক সমস্যা যেমন অবসাদ, অলসতা ইত্যাদি প্রতিরোধ করে । বিভিন্ন দক্ষিণপার্শ্বিক সমস্যা, যেমন আক্রমনাত্মক স্বভাব, অত্যধিক চিন্তাভাবনা, অতিরিক্ত পরিকল্পনা প্রভৃতি মূলাধার চক্রের সঠিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দূর করা যেতে পারে।

স্ব-মূল্যায়ন::
যদি আপনার মূলাধার চক্র ভারসাম্যহীন থাকে, তবে আপনার দিকনির্দেশবোধ এবং স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয় । এই চক্রের বাধাগ্ৰস্থ হওয়ার অন্যান্য লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে মলত্যাগের সমস্যা, যৌন ব্যাধি এবং প্রজনন সমস্যা ইত্যাদি।

ভারসাম্যহীনতার কারণ :

• অতিরিক্ত পরিমাণ মানসিক কার্যকলাপ এবং ইন্দ্রিয়ের আনন্দকে অত্যধিক প্রশ্রয় দেওয়া এই চক্রে বাধা সৃষ্টি করে।
• নেতিবাচক সামাজিক প্রভাব আমাদের মূলাধার চক্রের অন্তর্গত সহজাত গুণাবলী যেমন অবোধিতা এবং প্রজ্ঞাকেও প্রভাবিত করে।

কিভাবে ভারসাম্য লাভ হবে:
নিয়মিত সহজ যোগ ধ্যান অনুশীলন আমাদের মূলাধার চক্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং আমাদের সচেতনতায় এই চক্রের সুন্দর, সহজাত গুণাবলীগুলিকে শক্তিশালী করে। সহজ যোগ ধ্যান করার সময় আপনাকে যতবার সম্ভব সরাসরি ভূমিতে বসতে হবে।

বাইরে সময় কাটানো সম্ভবপর না হলে, হালকা গরম লবণ জলের গামলায় পা ডুবিয়ে বসে থাকলে (জলক্রিয়া) মূলাধার চক্রের বাধা দূর হয়।.