নিজের গুরু হয়ে ওঠা
নিজের ভিতরে গুরু তত্ত্বকে জাগ্রত করা
শ্রী মাতাজী সহজ যোগ শেখানোর প্রথম দিন থেকেই আত্ম-নিয়ন্ত্রণের অবস্থা অর্জনের নীতির উপর জোর দিয়েছিলেন। অন্যান্য যোগব্যায়াম পদ্ধতির মতো এখানে একজন গুরুর ঘনিষ্ঠ নির্দেশনায় বছরের পর বছর ধরে শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন সহজ যোগে নেই। সহজ যোগ ধ্যান মূলত আমাদের অন্তর্নিহিত জ্যোতির্ময় আত্মার মধ্যেই বিদ্যমান নিজস্ব সহজাত 'গুরু তত্ত্ব' বা 'মাস্টার প্রিন্সিপাল' অর্জনের উপর গুরুত্ব দেয়।
সমস্ত পবিত্র বা শুদ্ধ জ্ঞান কেবলমাত্র আমাদের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমেই জানা সম্ভব। আত্মা-সাক্ষাৎকার দ্বারা জাগ্রত এবং সঠিক সহজ যোগ ধ্যানের অনুশীলনের মাধ্যমে আমরা চেতনার এক সূক্ষ্ম অবস্থায় প্রতিষ্ঠিত হই । এই নতুন সচেতনতা লাভের ফলে আমরা নিজের জ্ঞান এবং অন্যের জ্ঞান যাচাই করার এক নিখুঁত উপায় প্রাপ্ত করি।
একবার আমরা 'আত্ম-নিয়ন্ত্রণের' এই অবস্থায় পৌঁছালে, আমরা স্পষ্টভাবে সবকিছু যেমন আছে তেমন দেখতে পাই, যেমনটি আমরা আগে বিশ্বাস করেছিলাম তেমন নয়। আমরা অন্ধভাবে কোনও ধর্ম, মতবাদ বা অনুশাসন অনুসরণ করি না; বরং আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ বদলে যায়, কারণ আমরা সবকিছুকে প্রত্যক্ষ করি পরম সচেতন অবস্থায়- যা আমাদের সীমিত মনের দ্বৈততার বাইরে।
শুরুতে, এই ধরনের ঐশ্বরিক অভিজ্ঞতা কেবল ক্ষণিকের জন্য স্থায়ী হতে পারে, কিন্তু আমরা যখন সহজ যোগ ধ্যানে আন্তরিকভাবে অগ্রসর হই, তখন এই ধরনের গভীর অভিজ্ঞতা আমাদের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। আমরা আমাদের জীবনের প্রতিটি দিকের মুখোমুখি হতে পারি। আগে ভয়ঙ্কর বা কষ্টকর বলে মনে হওয়া যেকোনো পরিস্থিতির সন্মুখীন হতে পারি এবং পরিস্থিতিকে আয়ত্ত করতে পারি।
আত্ম-নিয়ন্ত্রণের এই অবস্থা কেবল আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে সুসংগতই করে না, বরং অন্যদেরও আত্ম-উপলব্ধির এই সুন্দর অবস্থায় নিয়ে আসতে সক্ষম করে তোলে। অনেক সহজ যোগী অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন যে কীভাবে তাদের নিজস্ব জীবন, তাদের পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং এমনকি তারা যে বৃহত্তর সমাজে বাস করেন তাদের জীবনও কেবল নিজেদের গুরু তত্ত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছে।