পরিবারের গুরুত্ব
সমাজের মূল ভিত্তি
একটি সফল সমাজ গড়ার মূল ভিত্তি একটি পরিবারের শক্তি, পরিবারে একে অপরের প্রতি পারস্পরিক ভূমিকা এবং সম্পর্কের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। শ্রী মাতাজী প্রায়শই এক ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করতেন। পরিবার, সমাজ এবং বিশ্ব মঞ্চে একজন নারীর সমস্ত ভূমিকা শ্রী মাতাজী পালন করেছিলেন, তাই তাঁর জীবন আমাদের কাছে একটি আদর্শ উদাহরণ।
শ্রী মাতাজী অল্প বয়সেই তাঁর পরিবারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। বয়সে পরিণত না হলেও, যখন শ্রী মাতাজীর পিতামাতা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে নিয়োজিত ছিলেন, তিনি তাঁর সকল ভাইবোনের যত্ন নিয়েছিলেন। একটি আন্দোলনে তিনি একজন তরুণী নেত্রী হিসেবে যোগও দিয়েছিলেন। মা হিসেবে শ্রী মাতাজী তাঁর সন্তানদের দেখাশোনা করতেন এবং স্ত্রী এর ভূমিকায় তাঁর স্বামীকে সমর্থন করেছিলেন যখন তিনি জাতিসংঘের সামুদ্রিক সংস্থার সাথে কাজের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে ভ্রমণ করছিলেন। যদিও সমগ্র মানবসমাজের জন্য তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন, তবুও জনসাধারণের জন্য তিনি তাঁর কাজ শুরু করার আগে তাঁর কন্যাদের বিয়ে এবং তাদের পারিবারিক জীবনে স্থিত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলেন।
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের গতিশীলতা সম্পর্কে, শ্রী মাতাজী একবার বলেছিলেন, “তোমাদেরকে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। এটা স্বামী অথবা স্ত্রী (পৃথক পৃথক ভূমিকায়) নয়, বরং দুজনে একসাথে। তাদের একে অপরকে সম্মান করা উচিত, একে অপরকে ভালবাসা উচিত, একে অপরের সাথে সবকিছু ভাগ করে নেওয়া উচিত এবং এমনভাবে থাকা উচিত যেন লোকেরা দেখতে পায় যে একটি রথের দুটি চাকা রয়েছে, একটি বামদিকে এবং একটি ডানদিকে। ভারসাম্যের জন্য প্রয়োজন সমতা। সেখানে কোনো ভারসাম্যহীনতা থাকবে না। "দুজনেই সমান, কিন্তু অনুরূপ নয়।"
শ্রী মাতাজী একজন স্ত্রীর গুণাবলীকে পৃথিবী মাতার সাথে তুলনা করেছেন: একজন স্ত্রী সমস্ত পরিবারের পুষ্টি যোগান, তিনি উদার, প্রেমময় এবং পারিবারিক জীবন পরিপূর্ণ ও সুন্দর করে তৈরি করতে পারেন। তিনি শান্তিপ্রিয়, পারিবারিক সম্পর্ককে সুন্দর ও ছন্দময় রাখতে সাহায্য করেন। তিনি একটি পরিবারের শক্তির উৎস, এবং তার অবদান পারিবারিক ক্ষেত্রের বাইরেও বিস্তৃত। "নারী ক্ষমতা দেয়... তোমার ছেলেকে, তোমার স্বামীকে, সমস্ত সমাজকে।"
একজন স্বামীর দায়িত্ব তার পরিবারের সকলের দেখাশোনা করা এবং তাদের চাহিদা পূরণ করা, নিশ্চিত করা। স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা থাকা উচিত, কারণ তাদের ভূমিকা পরস্পর নির্ভরশীল এবং সমানভাবে মূল্যবান।
পারিবারিক জীবনের অন্তর্গত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে সন্তান ও পিতামাতা, ভাই ও বোন, পরিবারের ছোট সদস্য এবং বড়দের মধ্যে সম্পর্ক। যখন পরিবারে ভারসাম্য ও শান্তি থাকে, তখন তা প্রতিফলিত হয় চারপাশে। সমাজে একটি শান্তিপূর্ণ ও ভারসাম্যমূলক প্রভাব তৈরি করে।
স্ত্রী, মা এবং দিদা হিসাবে নিজের ভূমিকা পালন করার সময়েও শ্রী মাতাজীর দৃষ্টি বিশ্বব্যাপী ছিল। ১৯৯৫ সালে, বেইজিংয়ে জাতিসংঘের নারী সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে ভারসাম্য এবং আন্তঃনির্ভরতার এই বার্তাটি বিশ্ব মঞ্চে নিয়ে গিয়েছিলেন। এখানে তিনি নারীদের পরিস্থিতি সম্পর্কে তার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং একজন মায়ের ভূমিকার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন; একটি ভূমিকা যা অনেক সমাজ অবমূল্যায়ন করেছে।
সমস্ত মহান নেতাদের মত, তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধ এবং অনুপ্রাণিত করতে চেয়েছিলেন; তিনি সমগ্র বিশ্বকে তার পরিবার হিসাবে বিবেচনা করতেন। জাতি, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য তাঁর উদ্বেগ ছিল এবং তিনি সকলের যত্ন নিতেন।