ঐতিহ্য

ঐতিহ্য

রূপান্তর –ব্যক্তিগত চেতনা থেকে সামাজিক চেতনায় রূপান্তর

এখানে বই আছে, বিদ্যালয় আছে, শ্রেণিকক্ষ ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র আছে, শিল্প ও সঙ্গীতের জন্য একটি একাডেমিও আছে, এমনকি আশ্রয়হীনদের জন্য একটি গৃহও আছে—কিন্তু শ্রী মাতাজীর ঐতিহ্য তার থেকেও অনেক বৃহৎ ও গভীর।

কোনও একক স্মৃতিস্তম্ভ বা বেসরকারি সংস্থা শ্রী মাতাজী নির্মলা দেবীর প্রকৃত ঐতিহ্যকে প্রকাশ করতে পারে না; তা এই সব কিছুর ঊর্ধ্বে এবং অনেক বিস্তৃত।

শ্রী মাতাজী বিশ্বকে যা দান করেছেন, তা কোনো দর্শন, মতবাদ বা বিশ্বাসের পদ্ধতি নয়; এটি এক অনন্য ও অসাধারণ বিষয় আত্মসাক্ষাৎকার।
এই সুপ্ত আধ্যাত্মিক শক্তির জাগরণ প্রকৃত অর্থেই সমগ্র বিশ্বকে পরিবর্তন করতে পারে।

পরিবর্তনের উপায়গুলো বেশিরভাগ বাহ্যিক বা সমাজিক নিয়ম-কানুন থেকে শুরু হয়,এটি শুরু হয় ব্যক্তির নিজের অন্তরজ্ঞান ও ক্রমবর্ধমান আত্ম-সচেতনতা থেকে। “আধ্যাত্মিক স্বীকৃতির সেই ছোট্ট স্ফুলিঙ্গই শ্রী মাতাজীর বিশ্বের প্রতি উপহার।”

তাঁর কাজের মাধ্যমে তিনি ১০০-রও বেশি দেশে সহজ যোগ -এর অনুশীলনকারীদের নিয়ে একটি বিশ্বব্যাপী সম্প্রদায় গড়ে তুলেছিলেন।তাঁরা সবাই নিজেদের আধ্যাত্মিক উত্থানের আকাঙ্ক্ষায় একত্রিত,আর সেই ব্যক্তিগত পরিবর্তনের মাধ্যমেই বৃহত্তর সমাজে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়।

শ্রী মাতাজী ডাগ্লিওতে (উত্তর ইতালি, ২০০৭)
শ্রী মাতাজী ডাগ্লিওতে (উত্তর ইতালি, ২০০৭)

তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি কোনো প্রতিষ্ঠান বা আন্দোলন গড়ে তোলার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তাঁর বার্তা কেন্দ্রীভূত ছিল ব্যক্তির উপর।তিনি বিশ্বকে শিখিয়েছিলেন যে, ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আধ্যাত্মিকতার অনুশীলনই বিশ্বজনীন দুর্দশার সমাধান করতে পারে।তিনি ব্যক্তির স্বাধীনতার উপরও জোর দিয়েছিলেন — সহজ যোগে কোনো কট্টর মতবাদ বা নিয়মতান্ত্রিক তত্ত্ব নেই; আছে কেবল এমন এক আলোকিত সচেতনতা, যা প্রত্যেকের আধ্যাত্মিক বিকাশের জন্য কী উপযুক্ত তা উপলব্ধি করতে সাহায্য করে।

“তাদের এমনভাবে সক্ষম করে তুলতে হবে, যাতে তারা নিজের সমস্যার সমাধান নিজেরাই করতে পারে— এটা তাই, যা আমাকে করতেই হবে… তোমাদের নিজেদেরই নিজের ডাক্তার হতে হবে। তোমাদের নিজেদেরই নিজেদের গুরু হয়ে উঠতে হবে।”

কুণ্ডলিনীর জাগরণ এবং তার পরবর্তী ধ্যানের মাধ্যমে ব্যক্তির মধ্যে একটি প্রত্যক্ষ ও অনুভবযোগ্য পরিবর্তন ঘটিয়ে তিনি বিশ্বকে শিখিয়েছিলেন যে, কেবল জাগতিক সাফল্য বা ক্ষমতার চেয়ে উচ্চতর এক লক্ষ্যকে কীভাবে অর্জন করা যায়।তিনি উপদেশ দিয়েছিলেন,“আমাদের অন্তরের শান্তি অর্জন করতেই হবে।”আরও বলেছিলেন,“ধ্যান করার চেষ্টা করো। ধ্যান করো, যাতে তোমরা নিজের অন্তরসত্তায় পৌঁছাতে পারো। এই অন্তরসত্তাই হলো পরম আনন্দের এক বিশাল সমুদ্র।”

আমাদের কুণ্ডলিনী জাগরণের ফলাফল (সবাইকে) দেখাতেই হবে… এটি সারা বিশ্বের জন্য। এটাই আমার লক্ষ্য।”

আত্ম-সাক্ষাৎকার মাধ্যমে যে রূপান্তর তাঁর এই ঐতিহ্য আজও লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলছে,যারা সহজ যোগের ধ্যান অনুশীলনের মাধ্যমে সত্যিকারের অন্তরশান্তি লাভ করেছে, পরস্পরের সঙ্গে এবং প্রকৃতিমাতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে জীবন যাপনের পূর্ণ আনন্দ অনুভব করছে।

Explore this section