মহাবিদ্যালয়ে পড়ার সময়
স্বাধীনতা সংগ্রাম
—মা (ভারত মাতা) তোমার জয় হোক, তোমারই বিজয় হোক!
১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট মধ্যরাত, লক্ষ লক্ষ মানুষ দেশের স্বাধীনতাকে স্বাগত জানাচ্ছে। সারা ভারতজুড়ে শহর ও গ্রামে তেরঙা পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
শ্রী মাতাজী স্মরণ করে বললেন - “আমি ইউনিয়ন জ্যাককে নেমে আসতে দেখেছি, এবং তেরঙ্গাকে উপরে উঠতে দেখেছি। সেই মুহূর্তটি ছিল - আমার অনুভূতির অতীত। সেই মুহুর্তে ঠিক কী অনুভূতি হয়েছিল তা আমি বলতে পারব না— সত্য অসত্যকে জয় করেছে, অন্যায়ের উপর ন্যায়ের জয় হয়েছে এ এমন এক সুন্দর অনুভব।”
বহু বছর ধরে ব্রিটিশ আধিপত্যের পর, ভারতের স্বাধীনতা অবশেষে ফিরে এসেছে। অগণিত নাগরিকের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগকে শ্রী মাতাজী মনে মনে কুর্নিশ জানান। কত কত মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন আর শহীদ হয়েছেন তার হিসেব রাখা সত্যিই কঠিন ছিল।
শ্রী মাতাজীর পরিবারের আত্মত্যাগ শুরু হয়েছিল যখন শ্রী মাতাজীর বয়স মাত্র আট; সেই সময় শ্রী মাতাজীর পিতামাতাকে স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণের জন্য জেলে পাঠানো হয়েছিল। সেই বাল্য বয়সেই শ্রী মাতাজীকে তাঁর ছোট ভাইবোনেদের দেখাশোনার দায়িত্ব নিতে হয়েছিল। তাঁদের গৃহ ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছিল, যার ফলস্বরূপ সমস্ত পরিবারকে একটি খুবই সাধারণ জীবনধারা গ্রহণ করতে হয়েছিল। সেই সময়ে তাঁরা একটি ছোট কুঁড়েঘরে বসবাস করতেন, মেঝেতে ঘুমাতেন এবং কখনও কখনও না খেয়েই দিনযাপন করতেন। "আমাদের পিতামাতা দেশের স্বাধীনতার জন্য যা কিছু করছেন তা এতই উত্তম ও মর্যাদাপূর্ণ ছিল... যে আমরা কখনোই ছোটখাটো আরামের কথা চিন্তাও করিনি যা সাধারণত শিশুরা চেয়ে থাকে," শ্রী মাতাজী স্মরণ করে বললেন।
লাহোরের খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নকালে, ১৯৪২ সালে শ্রী মাতাজী মহাত্মা গান্ধীর 'ভারত ছাড়ো আন্দোলন' [১]-এ একজন সক্রিয় যুবনেত্রী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। প্রায়ই তাঁকে গ্রেফতার হতে হতো, এমনকি নির্যাতন করা হতো, কিন্তু এসব কোন কিছুই ভারতের স্বাধীনতার সংগ্রামে তাঁর অংশ নেওয়ার সংকল্পকে প্রভাবিত করতে পারেনি।
এই সময়ে, একজন আতঙ্কিত ভারতীয় ব্যক্তির সাথে শ্রী মাতাজীর দেখা হয়েছিল যিনি তাঁকে 'ভারত ছাড়ো আন্দোলনে' অংশ নেওয়ার বিরুদ্ধে পরামর্শ দিয়েছিল, এবং বলেছিল যে একজন যুবতী নারীর জন্য এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা খুব বিপজ্জনক হবে। লোকটি তাঁকে বাড়িতে মায়ের সাথে থাকতে বলেছিল, এবং তাঁর বাবাকে এসব কথা না জানানোর পরামর্শ দিয়েছিল। শ্রী মাতাজীর বাবা পরে বিষয়টি জানতে পেরে তাঁকে ডেকে বললেন, ঐ বুড়ো জনির ফালতু কথা না শুনতে। তিনি শ্রী মাতাজীকে নিয়ে খুব গর্বিত বোধ করতেন। তিনি চেয়েছিলেন তাঁর বাকি সন্তানেরাও যেন শ্রী মাতাজীর মতোই সাহসী হন।

ভারত স্বাধীন হয়েছিল। কিন্তু ব্রিটিশ 'ডিভাইড অ্যান্ড রুল' (বিভাজন ও শাসন) নীতি তার চিহ্ন হিসেবে, শেষ পর্যন্ত তিনটি পৃথক দেশ- ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ তৈরি করেছিল। স্বাধীনতার পরে দেশ বিভাজন সম্পর্কিত বিভ্রান্তির সময়, নিজের জীবনের আসন্ন বিপদ সত্ত্বেও, শ্রী মাতাজী একটি মুসলিম পরিবারকে আশ্রয়ের জন্য তাঁর বাড়িতে থাকতে দিয়েছিলেন। তিনি কখনই কারও প্রতি বৈষম্য করেননি, তার ধর্মীয় পটভূমি যাই হোক না কেন তিনি সর্বদা একীকরণকে প্রাধান্য দিতেন।