বাসস্থান

বাসস্থান

যেখানে পুরো বিশ্ব একটি পরিবার

ইংল্যান্ডে সঙ্গীতজ্ঞদের সঙ্গে শ্রী মাতাজী
ইংল্যান্ডে সঙ্গীতজ্ঞদের সঙ্গে শ্রী মাতাজী

"শ্রী মাতাজীর ছোট ভাই হেমন্ত প্রসাদ রাও (""এইচ.পি."") সালভে হিসাবশাস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় প্রায়ই তাঁর দিদির কাছে থাকতেন। মি. সালভকে শ্রী মাতাজী কিভাবে সেই সময় ভালোবেসে যত্নসহকারে দেখভাল করতেন সেগুলো ওনার মনে পড়ত,এমনকি শ্রী মাতাজী রাত জেগে থাকতেন তাঁর ভাইয়ের অভ্যাসগত চা তৈরি করার জন্য,প্রথমে তিনি তার মেয়েদের ঘুম পাড়াতেন, তারপর “… প্রায় এক ঘণ্টা ধরে আমার মাথায় মালিশ করার পর তিনি গিয়ে এক কাপ গরম চা তৈরি করতেন এবং আমাকে দিতেন।” []

পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর, শ্রী মাতাজী তার ভাইকে বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পীদের সঙ্গীতানুষ্ঠানে নিয়ে যেতেন। শ্রী মাতাজী "সুর সিঙ্গার সংসদ"-এর একজন প্রাথমিক সহ-সভাপতি ছিলেন, যা একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন যা সঙ্গীত পরিবেশনার প্রচার করত (বর্তমানে এটি ফেসবুকে পাওয়া যায়) সেইসাথে বম্বের মিউজিক ক্লাবেরও সদস্য ছিলেন এবং প্রায়ই বিভিন্ন সঙ্গীতানুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হতেন।মিস্টার সালভে বিসমিল্লাহ খান, আমির খান, ভীমসেন জোশি, শিবকুমার শর্মা এবং বিলায়েত খানের মতো মহান শিল্পীদের পরিবেশনা শোনার সৌভাগ্যের কথা স্মরণ করতেন। বহু বছর পরে, অনেক প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ শ্রী মাতাজীর জন্য ব্যক্তিগতভাবে পরিবেশন করেন, যেমন অমজাদ আলি খান, হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া এবং দেবু চৌধুরী।"

বাবামামার (এইচপি সালভে) সাথে শ্রী মাতাজী
বাবামামার (এইচপি সালভে) সাথে শ্রী মাতাজী

১৯৬১ সালে, শ্রী মাতাজী 'ইয়ুথ সোসাইটি ফর ফিল্মস' প্রতিষ্ঠা করেন, যা যুবকদের মধ্যে জাতীয়, সামাজিক এবং নৈতিক মূল্যবোধ উৎসাহিত করার জন্য ছিল। তিনি মুম্বাইয়ের চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডেরও সদস্য ছিলেন।

১৯৭০ সালের মুম্বাইতে ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডে শ্রী মাতাজী অংশ নিচ্ছেন
১৯৭০ সালের মুম্বাইতে ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডে শ্রী মাতাজী অংশ নিচ্ছেন
মুম্বাইতে ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে শ্রী মাতাজী
মুম্বাইতে ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে শ্রী মাতাজী

শ্রী মাতাজী লখনউতে একটি বাড়ি নির্মাণ শুরু করেছিলেন, যা তাঁর পরিকল্পনা ও দক্ষতার পরিচয় বহন করে। জবলপুরে গিয়ে মার্বেলের স্তুপ কেনার সময় এইচ.পি. সালভে লক্ষ্য করেছিলেন যে শ্রী মাতাজী সবথেকে উচ্চ মানের ও দৃষ্টিনন্দন সামগ্রী সাশ্রয়ী মূল্যে সংগ্রহ করতে পারতেন। নির্মাণ ও সংস্কারে তার এই দক্ষতা সময়ের সাথে আরও কার্যকর হয়ে ওঠে, শ্রী মাতাজী বিভিন্ন বাড়ির নির্মাণ ও সংস্কার কাজের তত্ত্বাবধানে ছিলেন।জীর্ণ সম্পত্তিগুলি মেরামত ও পুনরুদ্ধার করা তার জীবনের এক স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়। একইভাবে, বিপর্যস্ত ব্যক্তিদের তিনি নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে তাদের জীবনে ভারসাম্য ও স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতেন।

পুনের প্রতিষ্ঠানে শ্রী মাতাজীর বাড়ি
পুনের প্রতিষ্ঠানে শ্রী মাতাজীর বাড়ি
পুনের প্রতিষ্ঠানে শ্রী মাতাজীর বাড়ি
পুনের প্রতিষ্ঠানে শ্রী মাতাজীর বাড়ি

মি. সালভে স্মৃতিচারণায় লিখেছিলেন যে, মার্বেল অর্ডার দেওয়ার পর তারা এক আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেই আত্মীয়ের মেয়ে স্থানীয় রবার্টসন কলেজের এক অধ্যাপকের ছাত্রী ছিলেন, যিনি আধ্যাত্মিক বিষয়ে বক্তৃতা দিতেন। শ্রী মাতাজী আধ্যাত্মিকতার প্রতি আগ্রহী ছিলেন জেনে, তাদের এক আত্মীয় শ্রী মাতাজী এবং সেই অধ্যাপকের মধ্যে সাক্ষাৎ-এর ব্যবস্থা করেন। শ্রী মাতাজীকে দেখামাত্রই, অধ্যাপক উচ্ছ্বসিতভাবে তাঁর হাত উঁচু করে ছুটে এসে বললেন: ‘ও মা, আমি কতদিন ধরে তোমার সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করছিলাম! আজ আমার স্বপ্ন পূর্ণ হলো।’এসব কথা বলেই তিনি শ্রী মাতাজীর পায়ের কাছে শুয়ে পড়েন। মি. সালভে নিজে, তাঁর আত্মীয় এবং তাঁর মেয়েও এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন।

এটি ছিল ১৯৬১ সালের ঘটনা, নির্মলা দেবী তাঁর আধ্যাত্মিক কাজ তখনও শুরু করেননি।তিনি ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছিলেন, যতক্ষণ না তাঁর দুই মেয়ে বড় হয়ে বিবাহিত জীবনে স্থিত হন।তিনি একজন স্নেহশীল এবং নিষ্ঠাবান স্ত্রী ও মা ছিলেন।

“বিশ্বকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে হলে, প্রথমে দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হবে; জাতিকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে হলে, পরিবারকে সঠিকভাবে পরিচালনা করেকরতে হবে;পরিবারকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে হলে, আমাদের ব্যক্তিগত জীবনকে গঠন করতে হবে;এবং ব্যক্তিগত জীবন গঠন করতে হলে, প্রথমে আমাদের হৃদয়কে সঠিক পথে স্থাপন করতে হবে।”
কনফিউশিয়াস

১. ^ এইচ. পি. সালভে, 'আমার স্মৃতিকথা', নয়াদিল্লি: লাইফ ইটার্নাল ট্রাস্ট, ২০০০।