সৃজনশীলতা

সৃজনশীলতা

অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য‍্যের প্রকাশ

শ্রী মাতাজী শিল্পকলার প্রচারের জন্য সারা কর্মজীবন জুড়ে অনেক সময় এবং শক্তি উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি শিল্পকলাকে বিশ্ব সংস্কৃতির বিকাশ এবং পুষ্টির অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসাবে দেখেছিলেন। বিশেষ করে, তিনি ভারতের প্রাচীন সমৃদ্ধশালী শৈল্পিক ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করার কথা বলেছেন এবং সারা বিশ্বে তা সক্রিয়ভাবে প্রচার করতে উৎসাহিত করেছিলেন।

blick-vom-garten

২০০৩ সালে শ্রী মাতাজী, তাঁর ভাইয়ের সাহায্যে ভারতের মহারাষ্ট্রে একটি শিল্পকলা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানকার শান্ত গ্রামীণ পরিবেশে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, নৃত্য এবং চিত্রশিল্প শিখতে সারা বিশ্ব থেকে শিক্ষার্থীরা আসে। শ্রী মাতাজী স্বয়ং পিকে সালভে আর্টস একাডেমির স্থাপত্য নকশার নির্দেশনায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। পাশাপাশি মানবিক উদ্দেশ্যে নির্মিত অন্যান্য কিছু ভবনের নির্দেশনা দিয়েছিলেন যার মধ্যে রয়েছে দিল্লির অন্যতম বিশ্ব নির্মলা প্রেম আশ্রম, যা নিঃস্ব মহিলাদের এবং অনাথ শিশুদের জন্য তৈরি করা হয়েছে।

তিনি হস্তনির্মিত পণ্যের গুরুত্ব স্বীকার করেছিলেন এবং মহাত্মা গান্ধীর ঐতিহ্য অনুসরণ করে তিনি ধারাবাহিকভাবে ভারতের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কুটির শিল্পকে সমর্থন করেছিলেন।

বছরের পর বছর ধরে, শ্রী মাতাজী ধ্রুপদ ভারতীয় সঙ্গীত এবং নৃত্যের সবচেয়ে বিখ্যাত কিছু প্রতিপাদকদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন, তাদেরকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তাঁর উপস্থিতিতে যারা সঙ্গীত অথবা নৃত্য পরিবেশন করেছেন তাদের অনেকেই এটিকে তাদের শৈল্পিক বিকাশের একটি রূপান্তরকারী মুহূর্ত হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তাদের বর্ণনায় শ্রী মাতাজীর শক্তিশালী সৃজনশীল শক্তির গুণ শিল্পীদের নিজস্ব সৃজনশীলতা এবং কর্মক্ষমতার দক্ষতা বৃদ্ধি করেছে।

ওস্তাদ আমজাদ আলি খান, দেবু চৌধুরি এবং ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খান হলেন কয়েকজন বিখ্যাত শিল্পী যারা শ্রী মাতাজীর আমন্ত্রণে গান পরিবেশন করেছিলেন। তিনি নিজে বই, ভজন (ভারতীয় ভক্তিমূলক গান) এবং কবিতা লিখেছেন।

শ্রী মাতাজী শিল্পের প্রতিপালনের জন্য থিয়েটারকে (নাট্য সংস্থা) বিশেষ ভাবে সমর্থন করেছিলেন। তিনি একদল প্রতিভাবান নাট্যকারদের "থিয়েটার অফ ইটারনাল ভ্যালুস" তথা আভ্যন্তরীণ মূল্যবোধের বিকাশে নাটক উপস্থাপন করে সহযোগিতা করতে উৎসাহিত করেছিলেন। ১৯৯৩ সালে বেলজিয়ামের ঘেন্টে গঠিত, একটি দল এখনও আন্তর্জাতিকভাবে ভ্রমণ করে, নাট্যকারেরা তাদের কাজের মাধ্যমে দর্শকদের মধ্যে আত্ম-সচেতনতা এবং আধ্যাত্মিকতাকে অনুপ্রাণিত করে।

প্রকৃত অর্থে বস্তুবাদী হলে, আমরা বস্তুর মূল্য বুঝি। বস্তুর মূল্য হল (তার) সৌন্দর্য‍্য বোধ : প্রকৃত অর্থে শৈল্পিক বস্তু এবং এর ঊর্ধ্বে বস্তুর মূল্য হল যে, আপনি অন্যকে কতটা ভালবাসা দিতে পারেন।

"থিয়েটার অফ ইটার্নাল ভ্যালুস" ছাড়াও স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, কোম্পানি এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের সাথে শিক্ষাগত এবং শৈল্পিক প্রকল্পে দক্ষতা প্রদানের জন্য কাজ করে থাকে যেমন "কাল্টুরে অফ স্পিরিট ফেস্টিভ্যাল" তথা আত্ম চেতনার উৎসব এবং "ইন্টারন্যাশনাল নির্মলা আর্টস একাডেমি", যা ইতালির পিমন্টেতে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়।

থিয়েটার অফ ইটারনাল ভ্যালুস লন্ডন, যুক্তরাজ্যে উইলিয়াম ব্লেকের 'ডিভাইন হিউম্যানিটি' পরিবেশন করছে
থিয়েটার অফ ইটারনাল ভ্যালুস লন্ডন, যুক্তরাজ্যে উইলিয়াম ব্লেকের 'ডিভাইন হিউম্যানিটি' পরিবেশন করছে

ভারতের প্রাচীন যোগ শাস্ত্র অনুসারে, মানুষের সাতটি অপরিহার্য‍্য গুণ রয়েছে। এদের মধ্যে একটি হল সৃজনশীলতা, যেটি ছাড়া আত্ম-উপলব্ধি বা আত্ম-সচেতনতার সম্ভাবনা অত্যন্ত সীমিত। এই কারণে, শ্রী মাতাজী যেসব দেশ পরিদর্শন করেছেন, সেই সকল দেশে বিভিন্ন ব্যক্তি এবং সম্প্রদায়ের সৃজনশীল শক্তিকে জাগ্রত করার চেষ্টা করেছেন।

এগুলোই হল একজন শিল্পীর প্রেরণামূলক শক্তি। শিল্পীরা হল সৃষ্টির সবচেয়ে প্রেমময় ফুল, স্রষ্টার মধুরতম স্বপ্ন এবং মানব সমাজের সবচেয়ে প্রিয় অংশ। সম্ভবত তারা জানেন না যে দর্শকদের থেকে তারা কীভাবে এত ভালবাসা পান, পূজিত এবং অনুসৃত হয়ে থাকেন।