ইড়া নাড়ী

ইড়া নাড়ী

ইচ্ছা এবং আবেগ

আমাদের বাম শক্তি চ্যানেলটি (সংস্কৃতে ইড়া নাড়ী বলা হয়), চন্দ্র নাড়ী নামেও পরিচিত। এই নাড়ী মূলাধার চক্র (প্রথম চক্র) থেকে উৎপন্ন হয় এবং শরীরের বাম পাশ দিয়ে উপরের দিকে উঠে মস্তিষ্কের ডান পাশে একটি বেলুনের মতো আকারে শেষ হয়।

শ্রী মাতাজী এই বেলুনটিকে সুপারইগো হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা আমাদের সমস্ত স্মৃতি, অভ্যাস এবং শর্তাবলীর ভান্ডার হিসেবে কাজ করে। এটি আমাদের নৈতিক আচরণকে পরিচালিত করে, যা আমরা আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পিতামাতার লালন-পালন এবং সহপাঠীদের মাধ্যমে অর্জন করি।

আত্মা-সাক্ষাৎকারের আগে, আমরা আমাদের সুপারইগো থেকে উৎপন্ন হওয়া বাধা গুলোকে অনুভব করি, আমাদের ভেতরে ভোগের ইচ্ছা ও নৈতিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে এক ধরনের দ্বন্দ্ব অনুভূত হয়।

Chakra Charts_BN_Page_14_Image_0001

আনন্দ হলো বাম শক্তি নাড়ীর সঙ্গে যুক্ত একটি মৌলিক গুণ। তবে এই আনন্দ কোনো কিছুকে ঘিরে খুশি বা উত্তেজিত হওয়ার অর্থে নয়; কারণ সেই ধরণের অনুভূতি ক্ষণস্থায়ী এবং যখন কিছু প্রত্যাশা অনুযায়ী না হয়, তখন তা দুঃখ বা হতাশায় রূপ নিতে পারে। বরং, আনন্দ হল একটি বিশুদ্ধ গুনের প্রকাশ। শ্রী মাতাজী এই বিশুদ্ধ আনন্দের গুণকে আমাদের আত্মার একটি প্রকাশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, যা স্বতঃস্ফূর্ত ও স্বাভাবিক অনুভূতির মাধ্যমে প্রকাশ পায় — এটি আমাদের ধারনা বা প্রত্যাশার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এই আনন্দ চিরস্থায়ী প্রকৃতির, এবং এই বিশুদ্ধ অনুভূতি থেকে কিছু যোগ বা বিয়োগ করা যায় না। আত্মসাক্ষাৎকার লাভের পরে, আত্মার এই বিশুদ্ধ আনন্দ, স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের চেতনায় প্রকাশ পায় এবং নিয়মিত ধ্যানের মাধ্যমে এটিকে সহজেই ধরে রাখা যায়।

শ্রী মাতাজী আমাদের জীবনে বাম শক্তি নাড়ীর বাধাগ্রস্ত হলে যেসব সমস্যা দেখা দেয়, সেগুলিকে চিহ্নিত করেছেন। এ ধরনের ব্যক্তিরা প্রায়ই আবেগের চরম অবস্থার মধ্য দিয়ে যান। তাদের মনোভাব দ্রুতই উচ্ছ্বাস থেকে বিষণ্নতায় এবং আবার ফিরে উচ্ছ্বাসের রূপ নিতে দেখা যায় । তারা প্রায়ই অলসতা এবং চরম নিষ্ক্রিয়তার শিকার হন, যাকে প্রায়শই “কাউচ পটেটো” সিনড্রোম বা টিভির সামনে বসে থাকার প্রবণতার সঙ্গে তুলনা করা হয়।

সংক্ষেপে, বাম শক্তি নাড়ী আমাদের আবেগ, অনুভূতি ও আকাঙ্ক্ষাকে প্রভাবিত করে। এটি আমাদের স্মৃতি ও অতীত অভিজ্ঞতার সঙ্গেও যুক্ত। যতক্ষণ আমাদের আবেগ স্বাভাবিক মাত্রায় থাকে, ততক্ষণ আমরা একটি সুস্থ ও সুষম জীবন অনুভব করি। তবে, যখন বিষণ্নতা, মনমরা ভাব বা অতিরিক্ত চিন্তার মতো চরম আবেগ দেখা দেয়, তখন উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে সহজ যোগ ধ্যান ভালো ফলাফল দিয়েছে, যার অনেকগুলিই চিকিৎসা-ভিত্তিক গবেষণায় সফলভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

শ্রী মাতাজী এমন কিছু অত্যন্ত সহজ, নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি সুপারিশ করেছেন, যার মাধ্যমে আমরা আমাদের বাম দিককে ভারসাম্যে আনতে পারি এবং আমাদের আবেগগত ও মানসিক সত্তার উপর নেতিবাচক প্রভাবগুলি সংশোধন করতে পারি। নিয়মিত ধ্যান, আমাদের কম্পন-সচেতনতার (vibratory awareness) অবস্থার উপর আত্মবিশ্লেষণ, এবং বাম দিক পরিষ্কার করার জন্য শ্রী মাতাজী প্রদর্শিত কৌশলগুলোর প্রয়োগ আমাদের মধ্যে নতুন আনন্দের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে এবং জীবনের প্রতি এক প্রাণবন্ত, ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করে।