পরমচৈতন্য
দিব্য চৈতন্যের শীতল প্রবাহ
ঈশ্বরের ভালবাসার এই সর্বজনীন শক্তির জন্য বিভিন্ন সংস্কৃতিতে অনেকগুলি নাম রয়েছে, যেমন : নিউমা, রূহ, আশোস, তাও, পবিত্র আত্মার বাতাস, জীবনের জল ইত্যাদি। যাইহোক, তারা সব একই জিনিসকে ব্যক্ত করেছে - তা হলো ঈশ্বরের সর্বব্যাপী শক্তি। চেতনা এবং শক্তি হচ্ছে যার প্রাথমিক সমীকরণ। বাকি সবই গৌণ। এই কার্যকারণ শক্তি সমগ্র মহাজগতে বিস্তৃত। শ্রীমাতাজী এই সর্বব্যাপী শক্তিকে "পরমচৈতন্য" বলেছেন।
এই সর্বব্যাপী শক্তিকে আত্মসাক্ষাৎের পর একটি শীতল বাতাস বা ‘স্পন্দন’ হিসেবে অনুভব করা যায়, বিশেষ করে মাথার শীর্ষদেশের উপরে এবং হাতের তালুতে। ধ্যানের সময়, যখন আমাদের কুণ্ডলিনী বিভিন্ন চক্রের মধ্য দিয়ে উপরে ওঠে, তখন আমরা মেরুদণ্ডের ভেতরে প্রতিটি চক্রের অবস্থানে তা অনুভব করতে পারি এবং কখনও কখনও চক্রগুলোর সাথে সম্পর্কিত নির্দিষ্ট আঙুলগুলোতেও তা অনুভূত হয়। এই দিব্য শক্তির অনুভূতি শুধু আমাদের বাস্তবতার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্রই দেয় না, বরং আমাদের, চারপাশে থাকা সমস্ত মানুষ এবং প্রকৃতির জন্য যা কল্যাণকর সেই সম্পূর্ণ পরিস্থিতিকেও নিয়ন্ত্রণ করে।
অনেক অনুশীলনরত সহজ যোগী এই ঐশ্বরিক প্রেমের স্পন্দনের সূক্ষ্মতা ও কার্যকারিতায় বিস্মিত হয়েছেন—যা আমাদের সম্পূর্ণভাবে পরিবেষ্টিত করে এবং আমাদের স্বাধীন ইচ্ছায় কোনো হস্তক্ষেপ না করেই দৈনন্দিন জীবনে পথনির্দেশ করে। এর একটি সহজ উপমা হলো ইন্টারনেটের মতো একটি মাধ্যম, যা আমাদের জীবনের নানা সমস্যার সমাধান করতে সহায়তা করে, এমনকি কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান না থাকলেও। ইন্টারনেটের মতোই, আমাদের শুধু এই সর্বব্যাপী শক্তির সঙ্গে সঠিকভাবে সংযুক্ত হতে হয়—যা আমরা সহজেই প্রতিদিনের ধ্যানের মাধ্যমে অর্জন করতে পারি।