ধ্যান কীভাবে করবেন
নিয়মিত ধ্যানের অভ্যাস তৈরি করুন
যখন কুণ্ডলিনীর জাগরনের মাধ্যমে আত্ম-সাক্ষাৎকার লাভ হয়, তখন সেই অভিজ্ঞতাকে হৃদয়ে সযত্নে লালন করা জরুরি ,যাতে সেই অভিজ্ঞতা আরও গভীর হয়, ঠিক যেমন একটি অঙ্কুরিত বীজকে পোষণ করার জন্য সূর্যের আলো ও জলের প্রয়োজন হয় । এই অভিজ্ঞতাকে গভীরতর করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিত ধ্যান করা। ধ্যান শুধুমাত্র একটি কর্ম-কাণ্ড নয়, এটি একটি অবস্থা । সহজযোগে কিছু সহজ পদক্ষেপ আছে যার মাধ্যমে একটি পরিবেশ ও প্রাত্যহিক কর্মসূচি তৈরি করা যায় যা আমাদের ধ্যানমগ্ন অবস্থাকে আরো উন্নত করতে সাহায্য করে।
প্রথমে, এমন একটি স্থান নির্বাচন করুন যেখানে আপনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে বসতে পারেন। মাটিতে অথবা চেয়ারে বসে, হাত দুটিকে হাঁটুর ওপর রাখুন এবং হাতের তালু দুটি উপরের দিকে রাখুন। শান্ত হয়ে মনোযোগ ভেতরের দিকে আনুন। ভেতরের চিন্তাগুলিকে লক্ষ্য করুন এবং ধীরে ধীরে শান্ত হতে দিন। নীরবতা ও পরমানন্দের সেই অবস্থায় যাওয়ার শুদ্ধ ইচ্ছা করুন, যা আপনি প্রথম আত্মসাক্ষাৎকার লাভের সময় অনুভব করেছিলেন। ইচ্ছাশক্তি হল সহজ যোগ ধ্যানের প্রথম ধাপ, যা আপনাকে ধীরে ধীরে ধ্যানের গভীরে নিয়ে যাবে।
এরপর শান্ত হওয়ার পর, আপনার চিত্তকে ধীরে ধীরে মাথার তালুতে নিয়ে যান। এটি হল সহস্রার চক্র, যেখানে কুণ্ডলীনী শক্তি লিম্বিক ক্ষেত্রকে আলোকিত করে। এই চক্রটি আমাদের চিন্তা ও বুদ্ধির সীমার বাইরে। এখানে আমরা সামূহিক সচেতনতা বা ঈশ্বরের সর্বব্যাপী প্রেমশক্তির সাথে সংযুক্ত হই। মাথার তালুর ওপর ডান হাতের তালু রেখে, আঙুলগুলোকে টানটান করে তালুভাগের চামড়াকে আলতো চাপ দিয়ে ঘড়ির কাঁটার গতিতে ঘোরালে সহস্রার চক্রে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত হয় এবং ধ্যানের অবস্থা লাভ সহজ হয়।
ধ্যানের অবস্থায় স্থিত হওয়ার জন্য নিজেকে কিছু সময় দেওয়া প্রয়োজন। এই সময় কুণ্ডলিনীর গতিবিধি, চিত্তের গভীরতা, চিন্তার প্রবাহ কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ভূত হওয়া শান্তি ও স্থিরতা এবং ক্রমাগত বাড়তে থাকা আনন্দের অনুভূতি- এই সব বিষয়ের উপর লক্ষ্য রাখতে হবে । ধ্যান হল একটি অবস্থা যা আপনার ভেতরে স্বতঃফূর্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং কুণ্ডলিনী আপনার ভেতরের নতুন ও সুন্দর দিকগুলো উদ্ভাসিত করে।যদিও সবার সূক্ষ্ম দেহযন্ত্রের গঠন একই, কিন্তু চক্র এবং নাড়ীর স্থিতির বিভিন্নতার জন্য প্রত্যেকের আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা ও পথ ভিন্ন। এই পথকেই আত্ম-উপলব্ধির যাত্রা হিসেবে গ্রহণ করতে হয়
ধ্যানের শেষের দিকে, মাথার উপরে কয়েক সেন্টিমিটার উচ্চতায় হাত রেখে দেখতে পারেন যে আপনি ঠান্ডা বা গরম কোন অনুভূতি বুঝতে পারছেন কি না। একবার অভ্যস্ত হয়ে গেলে ,আপনি সারাদিন ব্যাপীও আপনার সহস্রার চক্রে মনোনিবেশ করতে পারবেন । কুণ্ডলিনীকে জাগ্রত করার শক্তি শ্রী মাতাজীর ছবি থেকে প্রবাহিত হয় ,তাই যখন আপনি ধ্যান করেন, শ্রী মাতাজীর একটি ছবি আপনার সামনে রাখলে এটি আপনার কুণ্ডলিনী জাগরণের শক্তিকে দৃঢ় করবে এবং আপনার ধ্যানকে গভীর করবে। আপনি ইচ্ছা করলে এই লিঙ্কের মাধ্যমে শ্রী মাতাজীর ছবি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করতে পারেন।
কিছু বিশেষ উপাদানের ব্যবহার ধ্যানের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে, যেমন - অগ্নি ও আলোক তত্ত্বের প্রতীক হিসেবে শ্রী মাতাজীর ছবির সামনে একটি মোমবাতি রাখা যেতে পারে। ধ্যানের সময় ধূপ জ্বালানো হলে, তার সুগন্ধ পৃথ্বীতত্ত্বের প্রতীক হিসাবে কাজ করে। সুমধুর ও প্রশান্তিদায়ক সংগীত, বিশেষ করে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের শাস্ত্রীয় সংগীত, মনকে শান্ত করতে সহায়তা করে। তবে, কিছু সময় সম্পূর্ণ নীরব থেকে ধ্যানের অবস্থায় লীন হওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যেকোনো জীবন্ত প্রক্রিয়ার মতো, সহজ যোগের অনুশীলনের মাধ্যমে ধ্যানের অভিজ্ঞতাও স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয়। এখানে বর্ণিত নিয়মগুলি সেই প্রবাহকে সহজ ও কার্যকর করে তোলে। নিয়মিত ধ্যান কুণ্ডলিনী শক্তিকে জাগ্রত করতে ও ধ্যানের অবস্থাকে স্থিতিশীল করতে সহায়তা করে এবং ধ্যানের গভীরতা বৃদ্ধি করে অন্তরের শান্তি ও আনন্দকে প্রস্থাপিত করে।
সব থেকে ভাল হয়, যদি আপনি সকালে এবং সন্ধ্যায় ধ্যান করার জন্য সময় বের করতে পারেন। কয়েক সপ্তাহ পরে, আপনি এর ফলাফল এবং উপকারিতা অনুভব করবেন। ধ্যানের জন্য কোনো কঠোর নিয়ম নেই – কিছু অনুশীলনকারী ১০ মিনিট ধ্যান করেন, আবার কেউ এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধ্যান করেন, এবং এটি প্রতিদিনের স্থিতির উপর নির্ভর করে বদলাতে পারে। গভীর ধ্যানে পৌঁছানোর জন্য, প্রথম দিকে আমরা কমপক্ষে ১০-১৫ মিনিট ধ্যান করার পরামর্শ দিই, যাতে কুণ্ডলিনী শক্তি আপনার সূক্ষ্ম তন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারে এবং ধ্যানের অবস্থা স্থিত হতে পারে।
আপনি দৈনিক ধ্যানের বিষয়ে অভ্যস্ত হওয়ার জন্য "মেডিটেশন এবং ব্যালেন্সিং গাইড" শীটটি ব্যবহার করতে পারেন, যা আপনাকে ধ্যানের সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে এবং শারীরিক ও মানসিক সমতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
আপনার আত্ম-সাক্ষাৎকার অর্জন এই আধ্যাত্মিক যাত্রার প্রথম ধাপ, এবং প্রত্যেক দিনের ধ্যান সেই পথে এক একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আমরা এটাই আশা করি, যেন শ্রী মাতাজীর পরম কৃপায় আপনি নিজের ভিতরের সত্ত্বা বুঝতে এবং বিকশিত করতে সক্ষম হন।