সামাজিক জীবন
বিশ্বের দরবারে সহজ যোগের উপস্থাপন
তাঁর সন্তানরা বড় হয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর, শ্রী নির্মলা দেবী সামাজিক জীবনে আরও বেশি সময় ও মনোযোগ দিতে সক্ষম হন। লন্ডনে স্যার সি পি শ্রীবাস্তব যখন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার প্রধান ছিলেন, তখন তিনি সেখানে অল্প কয়েকজন মানুষের সঙ্গে তাঁর আধ্যাত্মিক কাজ শুরু করেন। পাশাপাশি তিনি দেশজুড়ে ভ্রমণ করে বক্তৃতা দিতে থাকেন এবং আত্ম-সাক্ষাৎকার (Self-realization)-এর অভিজ্ঞতাও প্রদান করেন। খুব শিগগিরই শ্রী নির্মলা দেবীকে তাঁর অনুগামীরা “শ্রী মাতাজী” নামে সম্মানসূচক উপাধিতে ভূষিত করেন, যার অর্থ ‘সম্মানীয় মাতা’, কারণ তাঁর আশেপাশের মানুষরা তাঁর অসাধারণ আধ্যাত্মিকতা ও মাতৃসুলভ গুণাবলি উপলব্ধি করতে শুরু করেন।
তিনি কখনও এসব বক্তৃতা বা আত্মসাক্ষাতের জন্য অর্থ গ্রহণ করতেন না। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে প্রত্যেক মানুষের অন্তর্নিহিত সুপ্ত আধ্যাত্মিক শক্তির জাগরণ তাদের জন্মগত অধিকার; তাই এর জন্য কোনো মূল্য নেওয়া যায় না।
শ্রী মাতাজীর আবিস্কৃত আত্ম-সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ধ্যানের এই পদ্ধতির নাম হল সহজ যোগ।
প্রথমে তিনি যুক্তরাজ্যে তাঁর কার্যকলাপ কেন্দ্রীভূত করেন এবং ছোট শহর থেকে বড় মহানগর পর্যন্ত সর্বত্র তাঁর বাণী পৌঁছে দেন। তিনি দেশজুড়ে ভ্রমণ করে রেডিও ও টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দিতেন, জনসম্মুখে হলঘরে বক্তৃতা করতেন, এবং বক্তৃতার পর শ্রোতাদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে ধৈর্যের সঙ্গে তাদের গল্প ও সমস্যার কথা শুনতেন ও পরামর্শ দিতেন।
১৯৮০-এর দশকে, যখন শ্রী মাতাজী ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও উত্তর আমেরিকা সফর শুরু করেন, তখনও এটিই ছিল তাঁর কাজের ধারা। যাঁরা আগ্রহী ছিলেন তাঁদের সকলকে তিনি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সহজ যোগ শেখাতেন এবং আধুনিক যুগে আধ্যাত্মিকতার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে সহজ যোগের শিক্ষা দিতেন।
১৯৯০-এর দশকে তাঁর ভ্রমণ দক্ষিণ আমেরিকা, পূর্ব ইউরোপ, এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিস্তৃত হয়।
বিশ্বজুড়ে নানা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাঁকে বহু সম্মানসূচক পুরস্কার ও ডক্টরেট উপাধি প্রদান করা হয়। ১৯৯৫ সালে তিনি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত চতুর্থ বিশ্ব নারী সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। পাশাপাশি তিনি জাতিসংঘে বিশ্বশান্তি বিষয়েও ভাষণ দেন।
১৯৯৭ সালে ক্লেস নোবেল শ্রী মাতাজী এবং সহজ যোগের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। তিনি সহজ যোগকে ‘সঠিক ও ভুল নির্ধারণের একটি মানদণ্ড’ এবং ‘মানবজাতির জন্য আশার এক উৎস’ হিসেবে বর্ণনা করেন।