সুষুম্না নাড়ী
ভারসাম্য এবং বিবর্তন
আমাদের সুষুম্না নাড়ী, মেরুদণ্ডের গোড়ায় (যেখানে আমাদের কুণ্ডলিনী শক্তি অবস্থিত) স্যাক্রাম হাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে মাথার উপরে ফন্টানেল হাড় পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে।
সুষুম্না নাড়ী হল আমাদের বিবর্তন ও আধ্যাত্মিক উত্থানের পথ। এই নাড়ীটি আত্মসাক্ষাৎকারী ব্যক্তিদের মধ্যে এবং যারা ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপন করে, তাদের মধ্যে অত্যন্ত বিকশিত হয়। আত্মসাক্ষাৎকারের পরে সুষুম্না নাড়ীর সক্রিয়তা আমাদের সচেতনতায় সত্ত্ব গুণের (ধ্যান, পবিত্রতা, ন্যায়ভাব) সুন্দর গুণাবলীর প্রকাশ ঘটায়। এটি আমাদেরকে জীবনের সূক্ষ্ম দিকগুলোর প্রতি আরও মনোযোগী করে তোলে এবং স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এগুলোকে বিকশিত হতে সহায়তা করে।
আমাদের আধ্যাত্মিক উন্নতি এবং ধ্যানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চক্রটি হল সহস্রার চক্র। এটাই সেই চক্র যেখানে কুণ্ডলিনী শক্তির জাগরণের মাধ্যমে আমাদের বিবর্তনের উচ্চতর অবস্থাগুলির প্রকাশ ঘটে ও সেগুলি ধীরে ধীরে আমাদের ভিতরে বিকশিত হয়ে ওঠে। আমাদের আধ্যাত্মিক উত্থানের পথে সুষুম্না নাড়ীতে থাকা সকল বাধাগুলিকে দূর করা সহজ যোগ ধ্যানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। আমাদের সুষুম্না নাড়ী পরিষ্কার থাকলে, ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়ে যায়। এটি আমাদের কুণ্ডলিনী শক্তিকে, সহস্রার চক্রে মসৃণভাবে ওঠার পথ প্রশস্ত করে দেয়। যখন এই ঘটনা সম্পন্ন হয়, আমাদের মধ্যে বিদ্যমান কুণ্ডলিনী শক্তি সর্বব্যাপী ঐশ্বরিক শক্তির (যাকে শ্রী মাতাজী পরমচৈতন্য বলে উল্লেখ করেছেন) সাথে একত্রিত হয়, । সুষুম্না নাড়ীর সঠিক কার্যকারিতা সমস্ত চক্র এবং অন্য নাড়ীগুলির সূক্ষ্ম শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরিশেষে বলা যায়, আমরা এই বিষয়টিকে এইভাবে ভাবতে পারি যে, যদি আমাদের বাম ও ডান নাড়ী সমতায় থাকে, তবে আমরা আমাদের আবেগ, আকাঙ্ক্ষা এবং কর্মকে ভারসাম্যপূর্ণ রাখতে পারি, যাতে আমরা আমাদের জীবন উপভোগ করতে পারি। একটি সুশৃঙ্খল ও পরিতৃপ্ত জীবন আমাদের আধ্যাত্মিক ক্ষমতাকে বিকশিত হতে সাহায্য করে। পরিশুদ্ধ ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় এই তিনটি নাড়ী আমাদের সেই শক্তি দেয় যাতে আমরা জীবনের সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে সহজভাবে মোকাবিলা করতে পারি। তখন আমরা জীবনের সব দিককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও অর্থপূর্ণভাবে অনুভব করতে ও উপভোগ করতে পারি।