নাড়ীগুলি এবং (তাদের) কার্যক্রমের তিনটি প্রণালী
ভারসাম্য অর্জন
মানবদেহের এই সূক্ষ্মযন্ত্র অত্যন্ত জটিল একটি ব্যবস্থা, যা হাজার হাজার নাড়ীর সমন্বয়ে গঠিত — এই নাড়ীগুলোর মাধ্যমে আমাদের সারা শরীরে সূক্ষ্ম শক্তির প্রবাহ ঘটে। এই সূক্ষ্মদেহযন্ত্রের কোনো নির্দিষ্ট স্থানে যখন শক্তির সঞ্চার ঘটে, তখন তা “চক্র” নামে পরিচিত হয় (সংস্কৃতে “চক্র” মানে চাকা)। আমাদের পুরো সূক্ষ্মদেহযন্ত্রটি তিনটি প্রধান উল্লম্ব নাড়ী দ্বারা পরিচালিত হয়, এবং এই নাড়ীগুলো সাতটি মূল চক্রের মাধ্যমে পারস্পরিকভাবে সমন্বিত হয়ে কাজ করে।
যখন কুণ্ডলিনী জাগরণের মাধ্যমে আমরা আত্মসাক্ষাৎকার লাভ করি একমাত্র তখনই আমাদের এই সূক্ষ্মদেহযন্ত্র সম্পূর্ণরূপে সক্রিয় হয়। এই শক্তি আমাদের পুরো সূক্ষ্মযন্ত্রকে শুদ্ধ ও ভারসাম্যপূর্ণ করে তোলে এবং আমাদের দেহের মধ্যে থাকা চক্রগুলোর অন্তর্নিহিত বিশুদ্ধ গুণাবলীকে পরিস্ফূট করে তোলে।
প্রত্যেকটি তথা তিনটি নাড়ীই আমাদের মানসিকতার নির্দিষ্ট মেজাজ বা গুণাবলীর সাথে সম্পর্কিত এবং এদের ভারসাম্যই একটি পরিণত ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশে সহায়ক হয়। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে চলার পথে, আমরা সাধারণত হয় বাম দিকের নাড়ী (যাকে সংস্কৃতে “ইডা নাড়ী” বলা হয়) ব্যবহার করি — যা আমাদের ইচ্ছা ও অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণ করে, অথবা ডান দিকের নাড়ী (যাকে “পিঙ্গলা নাড়ি” বলা হয়) ব্যবহার করি — যা আমাদের চিন্তা ও কার্যকলাপকে নিয়ন্ত্রণ করে। আমাদের জীবনযাত্রার অতিরিক্ত প্রবণতাগুলো প্রায়শই এই নাড়ীগুলোর স্বাভাবিক ভারসাম্যকে ব্যাহত করে এবং এর ফলে আমরা শারীরিক, মানসিক বা নানা রকম আবেগগত সমস্যার সম্মুখীন হই। তৃতীয় নাড়ী তথা “সুষুম্না”, যা বাম ও ডান এই দুই নাড়ীর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান করে, কেবল আত্মসাক্ষাৎকারের মাধ্যমেই এটি সক্রিয় হয়। কুণ্ডলিনী শক্তি আমাদের এই তিন নাড়ী এবং সমস্ত চক্রগুলিকে আলোকিত করে, এবং আমরা অভ্যন্তরীণ ভারসাম্যের অবস্থায় পৌঁছতে সক্ষম হই।
এই সূক্ষ্ম নাড়ীগুলো এবং চক্রের শক্তি যে শুধুমাত্র আমাদের মেরুদণ্ডেই বা ইড়া কিংবা পিঙ্গলা নাড়ীতেই প্রকাশ পায় তা নয় বরং আমাদের হাত ও পায়ের নির্দিষ্ট অংশগুলোর সাথেও এদের সম্পর্ক রয়েছে।
আত্মসাক্ষাৎকারের পর, আমরা আমাদের নাড়ী ও চক্রগুলোর মধ্যে যদি কোনো অসন্তুলন থাকে তা স্পষ্টভাবে অনুভব করতে পারি। এর অনুভূতিগুলো আমরা গরম, অতিরিক্ত ঠান্ডা বা অসাড়তা হিসাবে অনুভব করি, যা মেরুদণ্ডের সংশ্লিষ্ট অংশ বা শরীরের বিশেষ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নির্দিষ্ট স্থানে অনুভূত হয়।
শ্রীমাতাজী শুদ্ধিকরনের (clearance) বিভিন্ন কৌশল বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, যেখানে মাটি, জল, আগুন, বায়ু ও আকাশ — এই পাঁচটি তত্ত্বের এক বা একাধিক উপাদান ব্যবহার করে নাড়ী ও বিভিন্ন চক্রে থাকা নির্দিষ্ট বাধাগুলিকে দূর করা যায় এবং এগুলিকে তাদের স্বাভাবিক ভারসাম্যে অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়।
